-আজকের লালমাই ডেস্ক:- সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে কুমিল্লার লালমাই উপজেলা যুবদলের দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে দলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক দুই চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংগঠন বিরোধী এহেন কর্মকান্ডের জন্য আপনাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।
শোকজ প্রাপ্ত লালমাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ মিয়া বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি আর্থিক ও শারীরিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। ২০২৩ সালের ২৬ আগষ্ট লালমাই উপজেলার উন্দানিয়ায় বিএনপির কর্মী সভায় সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের ভাতিজা শাহীনের নেতৃত্বে আমার উপর বর্বর হামলা হয় এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়।
সেই সময়ে আমার পায়ে কয়েকটি অপারেশন করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর ধরে আমি দেশ ও দেশের বাহিরে চিকিৎসা নিয়েছিলাম।
হামলার পর থেকে আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের প্রাডো গাড়িটি নিখোঁজ রয়েছে এবং হামলার ঘটনায় উল্টো আওয়ামী লীগের সাজানো মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, চব্বিশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার এক মাস পর আমি চিকিৎসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে আবার দেশের বাহিরে যাই। গত ২৮ জানুয়ারি আমি নিজ এলাকায় ফিরে আসলে আমার সমর্থকরা তিন শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে আমাকে রিসিভ করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এতে আমি কোন অন্যায় দেখিনা।
তারপরও আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর সাথে পরামর্শ করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে আমি শোকজের জবাব দেবো।
শোকজ প্রাপ্ত লালমাই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসেনের উপদেষ্টা, সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। লালমাই উপজেলার রাজনীতি তাঁর নির্দেশেই চলে। তিনি যুবদলকে সংগঠিত করতে আমাকে আহবায়ক করে একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করেন। এতে আমার অপরাধ কি? বরং উপজেলার যিনি আহবায়ক তিনি আমাকে ছাড়া কিভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা ও কমিটি করেন?
লালমাই উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম জাবের আহমেদ জাবেদ বলেন, ২০২৩ সালের ২২ মে আমাকে আহবায়ক করে ৫২ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল।
সম্প্রতি ওই কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান ও ৩নং যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ মিয়া সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ড শুরু করেন। কিছুদিন দুইজনেই সদস্য সচিব পরিচয় দিয়েছেন। কয়েকদিন ধরে মাহফুজুর রহমান নিজেকে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক পরিচয় দিচ্ছেন। ২৯ জানুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কুমিল্লায় আসলে লালমাই উপজেলার নেতাকর্মীরা তাঁকে বিষয়টি অবগত করেন। এর প্রেক্ষিতে তাদের শোকজ করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ